Skip to content

এনক্রিপশন ভাঙতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কম খরচ: কিউ-ডে আসছে!

এনক্রিপশন ভাঙতে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কম খরচ: কিউ-ডে কি আরও কাছে?

প্রযুক্তির জগতে যখনই ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটার’ শব্দটা আসে, অনেকের মনেই একটা হালকা আতঙ্ক তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন আলোচনাটা এনক্রিপশন (Encryption) বা তথ্য সুরক্ষাকে ঘিরে হয়। এতদিন ধারণা ছিল, বর্তমানের ব্যবহৃত সব শক্তিশালী এনক্রিপশন ভাঙতে গেলে যে ধরনের কোয়ান্টাম কম্পিউটার প্রয়োজন, তার জন্য বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দরকার হবে। সেটা আমাদের জীবদ্দশায় হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু নতুন একটি গবেষণা সেই ধারণাকে অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। গবেষণাটি বলছে, এনক্রিপশন ভাঙার জন্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের যত সম্পদ দরকার বলে ভাবা হয়েছিল, তার থেকে অনেক কমেই তা সম্ভব হতে পারে। তাহলে কি আমাদের ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য ‘কিউ-ডে’ (Q-Day) অর্থাৎ কোয়ান্টাম হুমকি দিবস অপ্রত্যাশিতভাবে দ্রুত এগিয়ে আসছে?

খুব সহজ করে বললে, হ্যাঁ, কিউ-ডে হয়তো ভাবনার চেয়েও কাছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কাল সকালেই আমাদের সব গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে। বরং এটা আমাদের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা, যা ডিজিটাল নিরাপত্তার বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করছে। চলুন, বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

কোয়ান্টাম কম্পিউটার আসলে কী?

আমাদের হাতে থাকা স্মার্টফোন (Smartphone), ল্যাপটপ (Laptop) বা ডেস্কটপ কম্পিউটারগুলো ক্লাসিক্যাল কম্পিউটার (Classical Computer) নামে পরিচিত। এরা ডেটা (Data) বা তথ্য প্রসেস (Process) করে বিট (Bit) ব্যবহার করে, যেখানে প্রতিটি বিট ০ অথবা ১ – এই দুটো অবস্থার যেকোনো একটিতে থাকতে পারে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার কাজ করে কিউবিট (Qubit) ব্যবহার করে। একটি কিউবিট একই সময়ে ০ এবং ১ – দুটো অবস্থাতেই থাকতে পারে, যাকে সুপারপোজিশন (Superposition) বলে। এর ফলে কোয়ান্টাম কম্পিউটার একই সঙ্গে অসংখ্য গণনা করতে পারে। এছাড়াও, এন্ট্যাঙ্গেলমেন্ট (Entanglement) নামের আরেকটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স (Quantum Mechanics) ঘটনা কিউবিটগুলোকে একে অপরের সাথে এমনভাবে যুক্ত করে যে, একটি কিউবিটের অবস্থা জানলে অন্যটির অবস্থাও জানা যায়, যদিও তারা ভৌগোলিকভাবে দূরে থাকুক না কেন। এই দুটো বৈশিষ্ট্যের জন্যই কোয়ান্টাম কম্পিউটার কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানে ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের চেয়ে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে কাজ করতে পারে।

বর্তমান এনক্রিপশন কীভাবে কাজ করে?

ইন্টারনেট (Internet) ব্যবহার করে আমাদের প্রতিদিনের যোগাযোগ, ব্যাংকিং (Banking), অনলাইন কেনাকাটা – সবকিছুই সুরক্ষিত থাকে এনক্রিপশনের মাধ্যমে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত হলো পাবলিক-কি ক্রিপ্টোগ্রাফি (Public-Key Cryptography)। আরএসএ (RSA) এবং ইলিপটিক কার্ভ ক্রিপ্টোগ্রাফি (Elliptic Curve Cryptography – ECC) এর সবচেয়ে জনপ্রিয় উদাহরণ। এই পদ্ধতিগুলো মূলত বড় বড় সংখ্যাকে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করার (Factoring large numbers) বা জটিল গাণিতিক সমস্যার ওপর নির্ভর করে তৈরি হয়, যা ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের জন্য সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন বা প্রায় অসম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, আরএসএ ১০০০ বিটের একটি সংখ্যা তৈরি করে, যা আসলে দুটি বিশাল মৌলিক সংখ্যার গুণফল। এই দুটি মৌলিক সংখ্যা খুঁজে বের করা ক্লাসিক্যাল কম্পিউটারের জন্য কয়েক কোটি বছর লেগে যেতে পারে, যা তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

কোয়ান্টাম হুমকির জন্ম: শরের অ্যালগরিদম

১৯৯৪ সালে পিটার শোর (Peter Shor) নামে একজন গণিতবিদ এমন একটি কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম (Quantum Algorithm) আবিষ্কার করেন, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটারকে খুব দ্রুততার সাথে বড় বড় সংখ্যাকে উৎপাদকে বিশ্লেষণ করতে শেখায়। এর নাম দেওয়া হয় শরের অ্যালগরিদম (Shor’s Algorithm)। এর অর্থ হলো, যেদিন একটি কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি হবে, সেদিন এটি মুহূর্তের মধ্যে আরএসএ (RSA) এবং ইসিএসিসি (ECC) এর মতো এনক্রিপশন পদ্ধতিগুলোকে ভেঙে ফেলতে পারবে। এটি আমাদের সব ডিজিটাল নিরাপত্তা, ব্যাংকিং লেনদেন, সরকারি গোপনীয়তা, এমনকি সামরিক যোগাযোগকেও হুমকির মুখে ফেলবে। এই সম্ভাব্য দিনটিই ‘কিউ-ডে’ নামে পরিচিত।

আগের ধারণা: বিশাল সম্পদের প্রয়োজন ছিল

শরের অ্যালগরিদম আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই বিজ্ঞানীরা কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তবে এতদিন ধারণা ছিল, এনক্রিপশন ভাঙার মতো শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করতে হলে কোটি কোটি ফিজিক্যাল কিউবিট (Physical Qubit) এবং অবিশ্বাস্য রকম উন্নত এরর কারেকশন (Error Correction) পদ্ধতির প্রয়োজন হবে। কোয়ান্টাম সিস্টেম (Quantum System) অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্যতম বাইরের হস্তক্ষেপেই কিউবিটগুলোর অবস্থা নষ্ট হয়ে যায়, যাকে ডিকোহেরেন্স (Decoherence) বলে। এই সমস্যা এড়াতে এবং কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য, প্রতিটি ‘লজিক্যাল কিউবিট’ (Logical Qubit) তৈরির জন্য হাজার হাজার ফিজিক্যাল কিউবিট প্রয়োজন হবে, যা দিয়ে এরর কারেকশন করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন যে, একটি সাধারণ ১০০০ বিটের আরএসএ এনক্রিপশন ভাঙার জন্য কমপক্ষে ১ মিলিয়ন থেকে ১০ মিলিয়ন ফিজিক্যাল কিউবিট (Physical Qubit) দরকার হতে পারে, যা নিখুঁতভাবে কাজ করবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে বিশাল আকারের কোয়ান্টাম কম্পিউটার, যা তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে বহু দশক দূরে বলে মনে করা হচ্ছিল। এই বিশাল সংখ্যা এবং প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জই মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছিল যে, কিউ-ডে হয়তো এখনও বহু দূরে।

নতুন গবেষণা: ছবিটা পাল্টে যাচ্ছে

কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণাগুলো এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। নতুন এই গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এনক্রিপশন ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় কোয়ান্টাম কম্পিউটারের আকার এবং জটিলতা ভাবনার চেয়ে অনেক কম হতে পারে। এর ফলে কিউ-ডে আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত চলে আসতে পারে।

কম কিউবিটে কাজ

আগে মনে করা হতো, শরের অ্যালগরিদম সফলভাবে চালানোর জন্য অসংখ্য কিউবিট প্রয়োজন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন এরর কারেকশন কৌশল (Error Correction Techniques) এবং অ্যালগরিদমিক অপটিমাইজেশন (Algorithmic Optimization) নিয়ে কাজ করছেন। এর ফলে কম ফিজিক্যাল কিউবিট ব্যবহার করেও শক্তিশালী লজিক্যাল কিউবিট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে মাত্র হাজার খানেক ফিজিক্যাল কিউবিট দিয়েই হয়তো একটি শক্তিশালী এনক্রিপশন ভাঙা সম্ভব হবে, যা আগের অনুমানের চেয়ে অনেক কম। এই কিউবিটগুলো এমনভাবে সাজানো হচ্ছে এবং তাদের ভুল সংশোধন এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে তাদের কার্যকারিতা অনেকগুণ বেড়ে যায়।

দ্রুত অপারেশন এবং দক্ষতা

শুধুমাত্র কিউবিটের সংখ্যাই নয়, কোয়ান্টাম গেটের (Quantum Gate) গতি এবং তাদের নির্ভুলতাও (Fidelity) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন গবেষণায় কোয়ান্টাম গেটের এরর রেট (Error Rate) কমানো এবং তাদের অপারেশন (Operation) দ্রুত করার পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। উন্নত হার্ডওয়্যার (Hardware) এবং সফ্টওয়্যার (Software) ডিজাইন (Design) এর মাধ্যমে কম সময় এবং কম সম্পদ ব্যবহার করে শরের অ্যালগরিদম কার্যকর করার পথ তৈরি হচ্ছে। কিছু বিজ্ঞানীর মতে, নির্দিষ্ট কিছু অপটিমাইজেশন ব্যবহার করে একটি RSA-2048 (২০০০ বিটের RSA) এনক্রিপশন ভাঙতে যে কয়েক কোটি বছর লাগার কথা, তা কোয়ান্টাম কম্পিউটারে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হতে পারে, যদিও এর জন্য অনেকগুলো ফিজিক্যাল কিউবিট প্রয়োজন। তবে, নতুন গবেষণাগুলো এই প্রয়োজনীয় কিউবিটের সংখ্যা আরও কমিয়ে এনেছে।

প্রভাব: কিউ-ডে আরও কাছে?

এই নতুন আবিষ্কারগুলোর অর্থ হলো, কিউ-ডে আসার সময়সীমা কমে আসছে। সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য লেনদেনকারী সংস্থাগুলোকে এখন দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর আগে যেখানে বলা হতো কিউ-ডে হয়তো ২০-৩০ বছর দূরে, এখন কেউ কেউ বলছেন এটি আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যেই চলে আসতে পারে। এর ফলে আমাদের হাতে প্রস্তুতির সময়টা অনেক কমে যাচ্ছে।

প্রস্তুতির সময় হাতে কতটা?

যদিও আমরা আতঙ্কিত নই, তবে এই নতুন গবেষণার ফলস্বরূপ আমাদের হাতে প্রস্তুতির জন্য খুব বেশি সময় নেই। বিশেষ করে বড় বড় সংস্থাগুলোকে এখনই এর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করতে হবে।

পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি (Post-Quantum Cryptography – PQC)

এর প্রতিকার হিসেবে বিজ্ঞানীরা ‘পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি’ (Post-Quantum Cryptography – PQC) নিয়ে কাজ করছেন। এগুলো এমন নতুন এনক্রিপশন অ্যালগরিদম, যা ক্লাসিক্যাল এবং কোয়ান্টাম – উভয় কম্পিউটারেই ভাঙা কঠিন হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (NIST) বিশ্বজুড়ে PQC অ্যালগরিদমগুলোকে মানসম্মত করার (Standardization) প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। বেশ কয়েকটি শক্তিশালী PQC অ্যালগরিদম এরই মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সাধারণ মানুষের জন্য কী?

সাধারণ মানুষ হিসেবে আমাদের এখনই খুব বেশি চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ফেসবুক (Facebook) পাসওয়ার্ড (Password), ইমেইল (Email) বা অনলাইন ব্যাংকিং (Online Banking) অ্যাকাউন্টগুলো রাতারাতি ঝুঁকির মুখে পড়বে না। কারণ, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের পক্ষে একসাথে এত বিপুল পরিমাণ তথ্য এনক্রিপশন (Encryption) ভাঙা এখনও সম্ভব নয়। তবে, বড় বড় সরকারি সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এবং যেসব কোম্পানির কাছে দীর্ঘমেয়াদী গোপনীয় তথ্য (যেমন চিকিৎসা গবেষণা, পেটেন্ট বা জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য) আছে, তাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। তাদের এখন থেকেই PQC সিস্টেমে মাইগ্রেট (Migrate) করার পরিকল্পনা করতে হবে।

এখানে একটি সহজ তুলনা করে দেখা যাক, কীভাবে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ধারণাগত প্রয়োজনীয় সম্পদ কমছে:

ফিচার (Feature) আগের ধারণা (Old Estimate) নতুন গবেষণার ধারণা (New Research Estimate)
প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল কিউবিট (Physical Qubits) ১ মিলিয়ন – ১০ মিলিয়ন+ ১০০ হাজার – ১ মিলিয়ন
লজিক্যাল কিউবিট (Logical Qubits) প্রতি ১০০০-১০,০০০ ফিজিক্যাল কিউবিট ১০০-১০০০ ফিজিক্যাল কিউবিট
এরর রেট (Error Rate) ০.০১% – ০.০০১% ০.১% – ০.০৫% (আরও দক্ষ এরর কারেকশনের কারণে)
এনক্রিপশন ভাঙার সময় (RSA-2048) কয়েক বছর – কয়েক দশক কয়েক ঘন্টা – কয়েক দিন
প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি (Technological Readiness) ২০-৩০ বছর দূরে ১০-১৫ বছর দূরে

(উপরের তথ্যগুলো বিভিন্ন গবেষণাপত্র থেকে প্রাপ্ত গড় অনুমানের উপর ভিত্তি করে তৈরি এবং এটি নির্দিষ্ট গবেষণার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে।)

তাহলে কি আতঙ্কিত হব?

না, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই গবেষণাগুলো বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের প্রমাণ। তবে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ডিজিটাল নিরাপত্তা কোনো স্থির বিষয় নয়; এটি প্রতিনিয়ত বিকশিত হচ্ছে। সরকার, শিল্প এবং গবেষণা সংস্থাগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে যাতে PQC পদ্ধতিগুলো দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বিশ্বজুড়ে প্রয়োগ করা যায়। আমাদের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করা উচিত।

ভবিষ্যতের পথ

এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো, আমাদের আত্মতুষ্টি ত্যাগ করতে হবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটারগুলো যেমন দ্রুত এগিয়ে আসছে, তেমনি PQC এর মতো বিকল্প সমাধানগুলোও তৈরি হচ্ছে। সামনে আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে: বর্তমান সিস্টেমে কীভাবে এই নতুন PQC অ্যালগরিদমগুলো যুক্ত করা যায়। এর জন্য দরকার হবে বড় আকারের প্রযুক্তিগত আপগ্রেড (Upgrade) এবং সমন্বয়। ব্যাংক, সরকারি সংস্থা এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকেই তাদের সিস্টেমে এই আপগ্রেডগুলো যুক্ত করার পরিকল্পনা করতে হবে।

উপসংহার

কোয়ান্টাম কম্পিউটার এনক্রিপশন ভাঙার জন্য ভাবনার চেয়ে কম সম্পদ ব্যবহার করতে পারে – এই নতুন তথ্যটি ডিজিটাল নিরাপত্তার জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এটি কিউ-ডে-কে আমাদের আরও কাছে নিয়ে আসছে, তবে এর অর্থ এই নয় যে পৃথিবী শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং, এটি আমাদের জন্য একটি সময়োপযোগী সতর্কবার্তা। আমাদের হাতে এখনও কিছুটা সময় আছে, তবে তা সীমিত। এখন সময় এসেছে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার, পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করার এবং আমাদের ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর। প্রস্তুতি নিন, কিন্তু আতঙ্কিত হবেন না!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।